
আমি কবি নই, কবিতা পড়ি না কখনো;
আমি কবি নই, কবিতা লিখিও না কখনো।
মানুষ, প্রেম, প্রকৃতি কিংবা ভালোবাসা,
আমার কাছে শুধুই দূরাশা।
কারণ আমি কবি নই!
নিরব পাহাড়ের গভীরে লুকায়িত নিস্তব্ধ যন্ত্রনা,
উত্তাল সমুদ্রের গর্জন বা ঝর্ণার অবিরাম কান্না;
জানোয়ারের পদতলে পিষ্ঠ মানবতা;
এ সব অনুষঙ্গ নেই আমার কলমে।
কারণ আমি কবি নই, আমি অকবি!
রাজমাতার সব অনাচারের আমি করি স্তুতি;
বিত্তবানের অন্যায়-অত্যাচারকে জানাই প্রণতি।
অন্তরাত্মা ভুলে গেছে বিদ্রোহ, প্রতিবাদের ভাষা,
কারণ আমি কবি নই, আমি রাজ অকবি, বোবা!
ডিজিটাল আইনে বন্দি হওয়া কবির আর্তনাদ,
নিপীড়িতের কান্না কিংবা ধর্ষিতার চিৎকার;
চিকিৎসা সেবা না পাওয়া মুমূর্ষের গোঙানি,
নির্যাতিত নারী ও শিশুর আহাজারি;
এ সব কিছুই হয় না আমার কর্ণগোচর।
কারণ আমি কবি নই, আমি বধির!
প্রতিনিধি দলের বিদেশ সফর সঙ্গী, খাস জমি বরাদ্দ;
অনুদান, পদক কিংবা সম্মাননায় আমি লালায়িত।
ওদের উচ্ছিষ্ট খেয়ে আমি বেঁচে আছি জীবনভর।
কারণ আমি কবি নই, আমি স্বার্থপর!
আমি ধুরন্ধর, ধান্ধাবাজ, চাটুকার চতুর পেশাজীবী;
তোষামদি, মিথ্যাবাদী; কপট ছলনায় সর্বপটিয়সী।
আলোকিত না করে সমাজকে করি কলুষিত।
আমি ক্ষমতার বলয়ে জেগে রই অবিরত।
কারণ আমি কবি নই, আমি ক্ষমতার পূজারী!
ওদের পদক, সম্মাননা পাওয়ার আছে কি অধিকার?
আজ ওদের ধিক্কার দেয়ার ভাষা নেই আমার!
শুধু ইচ্ছে করে ওদের মুখে নিষ্ঠীবন ছিটাবার!
- কবি মাহমুদুল হাসান মাসুম, কবি অরণ্য রেজা ও ব্যাংকার সিদ্দিক খানের ভেতরে জমে থাকা ক্ষোভ এ কবিতার অনুপ্রেরণা ও উৎস। আমি উনাদের কাছে কৃতজ্ঞ ও কবিতাটি তাঁদের প্রতি উৎসর্গ।